বিশ্বব্যাপী ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) ইনস্টলেশন বা স্থাপনে গত বছর নেতৃত্ব দিয়েছে চীন। দেশটি নতুন ১৭৪ দশমিক ১৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা সক্ষমতা যোগ করেছে, যা উত্তর আমেরিকার তুলনায় তিন গুণের বেশি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
বেঞ্চমার্ক ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনের এনার্জি স্টোরেজ ক্ষমতা ২০২৫ সালে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে গ্রিড-স্কেল প্রকল্পগুলো। এ ধরনের প্রকল্পে সরাসরি বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত থাকে ব্যাটারি।
গত বছর বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়িত নতুন প্রকল্পগুলোর মোট ৩১৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টা সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি তৈরি করেছে বিশ্বের বৃহত্তম এ ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বাজার। এর মধ্যে ডিসেম্বরে চীনে গ্রিড স্কেল ব্যাটারি স্টোরেজ ক্ষমতা ৬৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি যোগ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩৫ শতাংশ বেশি।
সবুজ জ্বালানি বিকাশে চীনের রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। গত সেপ্টেম্বরে দেশটির ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন ও ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এর লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে দেশটিতে ব্যাটারি স্টোরেজ দ্বিগুণ করা। আগে নেয়া এনার্জি স্টোরেজ লক্ষ্য এরই মধ্যে অতিক্রম করেছে চীন।
বেঞ্চমার্ক ইন্টেলিজেন্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর চীন ২৩৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নতুন ব্যাটারি স্টোরেজ ক্ষমতা ইনস্টল করবে, যা বৈশ্বিকভাবে প্রত্যাশিত ৪৫৮ দশমিক ৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টার অর্ধেকের বেশি।
চীনে রয়েছে সিএটিএল ও বিওয়াইডির মতো বিশ্বের কিছু বড় ব্যাটারি নির্মাতা। বৈশ্বিকভাবে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ও জ্বালানি গ্রিডে ব্যবহৃত ব্যাটারির চাহিদা বাড়ার সুবিধা পাচ্ছে এ কোম্পানিগুলো। কিন্তু অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ব্যাটারির দাম কমায় খাতটির সম্প্রসারণের জন্য হুমকি তৈরি হয়েছে।
গত বছর উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৫৭ দশমিক ৮ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ ক্ষমতা চালু হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ডাটা সেন্টার দ্রুত তৈরি হচ্ছে। তবে চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি বছর দেশটিতে ৭৯ দশমিক ২৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম ইনস্টল হবে, যা প্রত্যাশার তুলনায় কম।
পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রকল্প বাতিলের সংখ্যা ৩৪০ শতাংশ বেড়ে ৫৪টি হয়েছে। একই সময় ১৮১টি প্রকল্প বাতিল হয়েছে চীনে, অথচ ২০২৪ সালে বাতিল হয়েছে দুটি।
বেঞ্চমার্ক ইন্টেলিজেন্সের গবেষণাপ্রধান আয়োলা হিউজ বলেন, ‘বাতিল প্রকল্পের সংখ্যা হঠাৎ বাড়ার কারণ সম্ভবত বাজার বৃদ্ধি। ফলে ভবিষ্যতে পাইপলাইনে থাকা আরো বেশি প্রকল্প বাতিল হতে পারে।’
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ প্রকল্প বিকাশে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন নবায়নযোগ্য শক্তির পরিবর্তে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে মনোনিবেশ করছে।